Logo

ভাঙ্গুড়া উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে !

ভাঙ্গুড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানী ও বড়াল নদীর অন্তত ১০টি জায়গা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকাশ্যে নিয়মিত এই কর্মযজ্ঞ চললেও সবাই দর্শকের ভূমিকায়।

ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এতে সরাসরি জড়িত থাকায় কেউ মুখ খুলছেন না। গুঞ্জন রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজেশে বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে নদীর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলুন। তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাকে জানান।’

ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। আমি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিচ্ছি। নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন দিয়ে বড়াল ও গুমানী নদী বয়ে গেছে। বছরের এই সময়টিতে নদীতে পানি কম। এই সুযোগে দুই নদীর প্রায় দশটি অংশ থেকে নিয়মিত মাটি কাটা হচ্ছে। গুমানী নদীর চারটি অংশে থেকে কয়েটি চক্রের অধীনে প্রায় ১০০ শ্রমিক মাটি কাটছে।

মাটি কেটে তারা স্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়িতে করে সরাসরি নদী পাড়ে থাকা ইটভাটায় পাঠাচ্ছে। মাটি কাটা শ্রমিক আবদুল জলিল জানান, শ্রমিক হিসাবে তারা মাটি ভর্তির বিপরীতে মজুরি পেয়ে থাকেন। গাড়ি প্রতি মেলে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর প্রতি গাড়ি মাটি ইটভাটায় বিক্রি হয় ছয়শ থেকে সাতশ পঞ্চাশ টাকায়।

অপরদিকে, সরেজমিন গুমানী ও বড়ালের সংযোগস্থল থেকে শাহনগর গ্রামের ভেতর দিকে গেলে লাঠি হাতে একজন তেড়ে আসেন। তাকে সন্দেহজনক লোক ঠেকাতে নিয়োগ দিয়েছে মাটি খেকো চক্র। তার বাধায় ঘুর পথে তাকে এড়িয়ে গ্রামীণ সড়কের ভেতর দিয়ে গিয়ে দেখা যায়, বড়াল নদীতে মাটিকাটার মহোৎসব।

এক্সকেভেটরের মাধ্যমে বড় বড় গর্ত করে তোলা হচ্ছে মাটি। ট্রাক্টর চালক সুমন জানান, তারা সবাই মাসিক পঞ্চাশ হাজার টাকা চুক্তিতে মাটি পরিবহনের কাজ করছেন। এক্সকেভেটর চালক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে দুইশ চল্লিশ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে তিনি দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা চুক্তিতে মাটি কাটার কাজ করছেন।

তার কাছ থেকে জানা যায়, মাটি কাটা চক্রে দুই সদস্য আলাউদ্দিন ও মোমিনের নাম। চালকের সঙ্গে কথা শেষ হতেই সেখানে উপস্থিত হন আলাউদ্দিন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় মাটি কাটার আরও তথ্য। বললেন,

তিনি ছাড়াও মোমিনুল ও অষ্টমনিষা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেনে নামে আরও দুইজন রয়েছে এই চক্রে। মূলত উপজেলার সব ভাটা মালিকের রয়েছে প্রচুর অর্থ সম্পদ।

ফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, স্থানীয় নেতারা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করেই তারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও অষ্টমনিষা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুরারীমোহন সরকার বলেন, ‘নদী থেকে কোনো মাটি কাটা হচ্ছে না। আমি নিজে গিয়েও সেখানে মাটি কাটার কোনো চিহ্ন পাইনি।’



ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: নাটোর হোস্ট